Header Ads Widget

Responsive Advertisement

সাম্প্রতিক খবর

6/recent/ticker-posts

সপ্তাহ না ঘুরতেই উঠে যাচ্ছে কার্পেটিং: পুঠিয়ায় সড়ক নির্মাণে ব্যাপক অনিয়মে স্থানীয়দের ক্ষোভ

রাজশাহীর পুঠিয়া পৌরসভা এলাকার বিভিন্ন সড়ক পূণনির্মাণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন পৌর প্রকৌশলীর গাফলতিতে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সড়কের কার্পেটিংয়ে অতিনিন্মমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করেছেন। যার কারণে সপ্তাহ না ঘুরতেই সড়কের অধিকাংশ স্থানে কার্পেটিং উঠে যাচ্ছে।

পৌরসভা অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯-২০ অর্থ বছরে আইইউআইডিপির অধিনে বিভিন্ন ওয়ার্ড মিলে ৪ কিলোমিটার সড়ক সংস্কার ও পাঁচটি স্থানে রিটানিং ওয়াল নির্মাণের জন্য প্রায় তিন কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। আর ওই নির্মাণ কাজ গুলো করেন নাটোর জেলার গোলাপ কনস্ট্রাকশন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান।

মাজেদুর রহমান নামে এক পৌরবাসী বলেন, গত ১০ দিন থেকে পৌরসভার বিভিন্ন সড়কের কার্পেটিং এর কাজ চলছে। অথচ ওই সড়ক গুলোতে গত দেড় বছর আগেই পূনঃকার্পেটিং এর কাজ শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বর্তমানে প্রকৌশলীর মদদে ঠিকাদারের লোকজন সড়ক গুলোতে অতিনিন্মমানের পাথর ও বিটুমিন দিয়ে নির্মাণ কাজ করেছে। কোথাও কোথাও বিটুমিন কম দিয়ে পোড়া মবিল বেশী ব্যবহার করেছেন। যার কারণে সড়ক কার্পেটিং এর সপ্তাহ না ঘুরতেই বেশীর ভাগ স্তানে আবারো পূর্বের অবস্থায় ফিরে আসছে।

নাম প্রকাশ না করা শর্তে পৌরসভার সাবেক একজন কাউন্সিলর বলেন, গত ৫ বছরে পৌর প্রকৌশলীর গাফলতিতে এলাকায় যত নির্মাণ কাজ হয়েছে তার বেশীর ভাগই অনিয়ম হয়েছে। কোনো কাজ শতভাগ হয়নি। আইইউআইডিপির ওই কাজটি প্রায় দু’বছর আগে বরাদ্দ হয়। আর সড়ক নির্মাণ কাজের মেয়াদ প্রায় এক বছর আগেই শেষ হয়ে গেছে। সম্প্রতি পৌরসভা নির্বাচনে নতুন মেয়র আসার পৌর প্রকৌশলী ও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান নামমাত্র কাজ শেষ করার চেষ্টা করছেন।

ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স গোলাপ কনস্ট্রোকশন এর কর্ণধার গোলাপ হোসেন বলেন, নির্মাণাধিন সড়ক গুলোতে ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে কার্পেটিং উঠে যাচ্ছে। বিষয়টি আমি পৌরসভা প্রকৌশলীকে জানিয়েছি। সড়কে অতিনিন্মমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়টি প্রকৌশলী ভালো জানেন।

তবে পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম বলেন, সড়ক নির্মাণে কোনো অনিয়ম বা দূনীতি হয়নি। তবে রাস্তায় কার্পেটিং শেষ না হতেই বিভিন্ন যানবাহন চলাচলের কারণে কয়েকটি স্থানে কার্পেটিং উঠে গেছে। ওই স্থানে ঠিকাদারের মাধ্যমে পূনরায় কাজ করিয়ে নেয়া হবে।

এ ব্যাপারে পৌরসভার নবনির্বাচিত মেয়র আল মামুন খান বলেন, নিয়ম অনুসারে আগামী তিন ফেব্রæয়ারী আমার প্রথম কর্মদিবস। দ্বায়িত্ব নেয়ার পরই পৌরসভার মধ্যে যত অনিয়ম দূর্ণীতি হয়েছে সে গুলো তদন্ত পূর্বক দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ